দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বহুল কাঙ্ক্ষিত বদলি প্রক্রিয়ার প্রশাসনিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। শিক্ষকদের জন্য তৈরি নির্দিষ্ট সিস্টেমে লগইন সুবিধা নিশ্চিত করতে নিজ নিজ শিক্ষকের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
🚀 সঠিকভাবে বদলি আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চালু হওয়া এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার সম্প্রতি ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল-কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ জারি করেছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক একই প্রতিষ্ঠানে টানা দুই বছর কর্মরত থাকলে এবং কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানে পদশূন্য থাকা সাপেক্ষে বদলির আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
নীতিমালা অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) নির্ধারিত সময়ে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্যপদের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করবে। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ, বদলির আদেশ জারি এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদানের কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
প্রথম নিয়োগের পর টানা দুই বছর চাকরি সম্পন্ন করলে একজন শিক্ষক বদলির আবেদন করতে পারবেন। নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর পুনরায় বদলির আবেদন করতে হলেও সেখানে ন্যূনতম দুই বছর কর্মরত থাকতে হবে। একজন শিক্ষক চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন।
আবেদনের ক্ষেত্রে প্রথমে নিজ জেলার শূন্য পদের জন্য আবেদন করা যাবে। নিজ জেলায় শূন্য পদ না থাকলে একই বিভাগের অন্য জেলার শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করা যাবে। বিশেষ ক্ষেত্রে দেশের অন্য জেলা অথবা স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল-সংক্রান্ত জেলায় বদলির আবেদন করার সুযোগও রাখা হয়েছে।
একটি শূন্য পদের বিপরীতে একাধিক আবেদন জমা পড়লে নারী প্রার্থী, কর্মস্থলের দূরত্ব, স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল এবং জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। দূরত্ব নির্ধারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুসৃত পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্যযুক্ত আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে।
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুজন শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন। তবে একই বিষয়ে একজনের বেশি শিক্ষককে বদলি করা হবে না। আবেদনকারী সর্বোচ্চ তিনটি পছন্দের প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করতে পারবেন।
বদলির আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্ব থাকবে মাউশির মহাপরিচালকের ওপর। পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হবে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে। বদলির পর শিক্ষকের এমপিও, আর্থিক সুবিধা এবং জ্যেষ্ঠতার ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকবে।
তবে বদলিকে কোনো শিক্ষকের অধিকার হিসেবে দাবি করা যাবে না। বদলি হওয়া শিক্ষক টিএ-ডিএ ভাতা পাবেন না। আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান শিক্ষককে অবমুক্ত করবেন এবং অবমুক্তির পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। যেসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ বা ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে, তারা বদলির জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না।
শিক্ষাসহ সব খবর সবার আগে জানতে দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গেই থাকুন। ভিডিয়োগুলো মিস করতে না চাইলে এখনই দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। বেল বাটন ক্লিক করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিয়োগুলোর নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে।

إرسال تعليق